ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুল

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল আজকের পঞ্চগড়ের চা বাগান। ক্ষুদ্র পরিসরে চা চাষের পথিকৃত জেলা পঞ্চগড়। ২০০০ সালে পঞ্চগড়ে চা চাষের যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে হাটি হাটি পা পা করে পঞ্চগড়ের চা আজ ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। পঞ্চগড়ে চা চাষের যে বিপ্লব ঘটেছে তা মূলত বাংলাদেশ চা বোর্ড তথা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই) এ নিয়োজিত বিজ্ঞানীবৃন্দ ও প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট এর কর্মকর্তাদের নিরলস কর্ম প্রচেষ্টায়। যার ফলে বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের এই অবহেলিত অঞ্চল মঙ্গা নামক অভিশাপ্ত শব্দটিকে জয় করতে পেরেছে। এতে করে এই উত্তরের জনপদটি যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে তেমনি এই অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে অন্যতম চালিকা শক্তিতেও রূপান্তরিত হয়েছে। এক্ষেত্রে চা শিল্প নিঃসন্দেহে অগ্রণী ভুমিকা রেখে আসছে।

বর্তমানে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা বাগান এবং ৭,৩১০টি ক্ষুদ্রায়তন চা বাগানে মোট ১০,১৭০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। বিগর বছরে এ অঞ্চল থকে ১০.৩০ মিলিয়ন কেজি (দেশের প্রায় ১২ শতাংশ) চা উৎপাদিত হয়েছে। শুরুতে এ অঞ্চলের বেশীরভাগ ক্ষুদ্র চা চাষিগণ চা চাষে অনভিজ্ঞ ছিল। তাই অনভিজ্ঞতা ও অদক্ষতার কারণে তাঁরা তাঁদের ইচ্ছামতো চারা রোপন, পাতা চয়ন, প্রুনিং, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমন করে থাকতো।

ফলশ্রুতিতে প্রায়শই তাঁদের চা বাগানে ভুল প্র্যাকটিস অনুসরণ করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য উত্তরাঞ্চলের ক্ষুদ্রায়তন চা চাষিদের বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জারী ছিল। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান হাতে কলমে প্রশিক্ষণের বিষয়টি অধিকতর নিয়মতান্ত্রিক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যাতে করে সকল স্তরের অর্থাৎ ১৪৮২ জন নিবন্ধিত ও ৫০৭৬ জন অনিবন্ধিত ক্ষুদ্র চা চাষিদের দোরগোড়ায় প্রশিক্ষণ সেবা সারা বছর জুড়ে বিরাজমান থাকে।

উদ্দেশ্যঃ

• এ স্কুলের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র চা চাষিদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
• কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী চা পিয়াসু মনের খোরাক মিটাতে চা আবাদীর বিভিন্ন বিষয়ে সহজভাবে জ্ঞান দান করা।
• চাষিদের চা আবাদীর বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে তার সুষ্ঠু সমাধান দেওয়া।
• চা আবাদীর বিভিন্ন মডিউলে সিলেবাস ভিত্তিক চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
• চায়ের তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি চা বাগানের মধ্যে ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া ও ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন করা।
• প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে উপযুক্ত প্রশিক্ষক নির্বাচন করা যাতে পরবর্তীতে তাঁরা “ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে” ক্লাস নিতে পারে।
• গুণগতমান সম্পন্ন চা তৈরির লক্ষ্যে টি টেস্টিং সেশনের আয়োজন করা।

কার্যাবলীঃ

• চাষিদের গ্রহণ উপযোগী সিলেবাস তৈরিকরণ ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল বিতরণ।
• বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে চাষিদের ক্লাস পরিচালনা করা।
• প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লাস শেষে মূল্যায়ন করা।
• মাল্টিমিডিয়াতে চা আবাদীর বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও দেখানো।
• ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ মোবাইল অ্যাপ্স এর ব্যবহার শিখানো।
• অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষ করার পরামর্শ প্রদান।
• ক্ষেত্র বিশেষ বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) থেকে অভিজ্ঞ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ) থেকে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক নিয়োগ করে উন্নতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

কাঙ্ক্ষিত ফলাফলঃ

• দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চা চাষি তৈরি।
• সঠিক উপায়ে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চা আবাদী ব্যবস্থপনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ও প্রয়োগ।
• উত্তরাঞ্চলে চা আবাদীর বৈজ্ঞানিক কলাকৌশল গ্রহণ।
• টেকসই ও নিরাপদ চা উৎপাদন এবং চাষিদের কাঁচা পাতা ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি।
• কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে সক্ষম।
• উত্তরাঞ্চলে কম খরচে চায়ের উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধি।